দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই ছেলেমেয়েগুলো, দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো, প্রবল এক লড়াইয়ে একটি ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনেছে। এনে আমাদের হাতে দিয়েছে। এই দেশটাকে যেন আমরা আমাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, কাজ দিয়ে, ডেডিকেশন দিয়ে, মেধা দিয়ে এবং প্রজ্ঞা দিয়ে আগলে রাখতে পারি, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এ বিষয়ে আমাদের ফরেন সার্ভিসের যে দায়িত্ব, সেটা আমরা কখনো ভুলবো না। আপনারা প্রতিটি মুহূর্তে এ কথাটি মনে রাখবেন, শহীদরা আমাদের হাতে একটি বড় দায়িত্বভার দিয়ে গেছেন।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকে আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সেই ক্লায়েন্ট স্টেট (নতজানু রাষ্ট্র) পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না, কখনোই না। এই কাজটা আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই সংগ্রামের যে সাফল্য, সেই সাফল্যের একটি ভার আমাদের ওপর আছে এবং সেটা আমাদের বহন করতে হবে।'
তিনি বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী যে কথা আজ বললেন, ওই যে ক্লায়েন্ট স্টেট, ওই অবস্থায় যেন আমরা কখনো ফিরে না যাই। আর এ জন্য আমরা ফ্রন্টলাইনার। জুলাইয়ের যে কাজ (উদ্দেশ্য), সেটা আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে নেওয়ার যে দায়িত্ব আমাদের, সেটা আপনারা কেউ ভুলবেন না; প্রতিনিয়ত মনে রাখবেন।’
তিনি আরও বলেন, 'আমাকে যখন প্রফেসর ইউনূস বললেন, তার সরকারে যোগ দিতে, আমি যোগ দেওয়ার দিন তার সঙ্গে দেখা করিনি। আমি গিয়েছি হাসপাতালে এই আহতদের দেখতে। ফিরে এসে তাঁকে বলেছি, স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই যে আমরা কী অবস্থায়, তাঁদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই বাংলাদেশ আবার আসছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত। যখন এই কথাগুলো আমরা শুনি, তখন আসলে বুঝতে পারি যে, আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনে বলেছিলেন, “জুলাই আন্দোলনের একটি বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশকে একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হিসেবে দেখতে চাই না।” তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটি বললেন, সেটি সেই একই কথার প্রতিধ্বনি।’
/অ