দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনের ভুয়া প্রলোভন ব্যবহার করে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে ‘লিসেন’ শীর্ষক আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার শুধু ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাই কেড়ে নেয় না, এটি সমাজের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের ভয়াবহতা বোঝানো সম্ভব নয়। ‘লিসেন’ গ্রন্থে তুলে ধরা উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমাজে সচেতনতা তৈরি এবং মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ বছরের ‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস’-এর প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্র এখন মানুষকে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম ও দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে। এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত মানব পাচার শনাক্ত, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগই এ অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ উদ্যোগের জন্য আইওএম ও কইকাকে (KOICA) ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইওএমের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘লিসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত আইওএমের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ দেশে মানব পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রথম আলোকচিত্রভিত্তিক তথ্যগ্রন্থ।
এমএস/