দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের এই দিনে বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ দীর্ঘ সময় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবরণ করতে হয়েছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’। সেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে এবং অনেককে গুম করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর এখনো সন্ধান মেলেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয় এবং দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী-শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলন দমনে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল এবং মায়ের কোলে থাকা শিশুও রেহাই পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণায় পরিণত হয়েছিল। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার, মন্ত্রিসভা, কথিত সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি ও ফ্যাসিবাদের দোসররা পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা বিশ্বের ইতিহাসেও নজিরবিহীন ঘটনা।
তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলেও তা যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না এবং দেশকে কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।
এমএস/