দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে কাশিমপুর ও অপর একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনেন জেলা প্রশাসক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কাশিমপুর ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অফিসটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেই একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালিত অভিযানে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ যাচাই করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কাশিমপুর ভূমি অফিসে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবায় ঘুষ দাবি, দায়িত্বে অবহেলা এবং হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে’—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও জেলা প্রশাসন তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থা শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে। জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভূমি সেবায় স্থায়ীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসের কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে।
এমএম/