দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল কবীর বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার স্বভাবই কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা। তাই গণতান্ত্রিক সমাজে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করা।
রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখলে চলবে না। জনগণের অংশগ্রহণ, অধিকার ও স্বার্থকে কেন্দ্র করেই প্রকৃত রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে।
সাংবাদিকতার ভূমিকা তুলে ধরে নূরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশনের পেশা নয়; এটি জনস্বার্থ, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বুদ্ধিভিত্তিক কার্যক্রম। তিনি বলেন, তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে মানুষ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার একটি ধারা কেবল তথ্য পরিবেশনে সীমাবদ্ধ থাকলেও অন্য ধারা জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল অবস্থান নেয় এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। তরুণ সাংবাদিকদের জনস্বার্থমুখী ও গণতন্ত্রভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশে উপনিবেশিক ধাঁচের বিভিন্ন আইন বহাল রয়েছে, যা সংবাদমাধ্যম ও বাক্স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
তিনি ১৯৭৩ সালের সংবাদপত্র-সংশ্লিষ্ট আইন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, প্রকাশনার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না—এ ধরনের অঙ্গীকার নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার জনস্বার্থবিরোধী কাজ করলে তার সমালোচনা করা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় বর্তমান ও সাবেক সরকারের তথ্যমন্ত্রীদের রাজনৈতিক ভাষা নিয়েও মন্তব্য করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও বাক্স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনগুলো যুগোপযোগীভাবে সংশোধন বা প্রয়োজন হলে বাতিল করা উচিত।
বক্তব্যের শেষে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নূরুল কবীর বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে।
এমএম/