দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নবম জাতীয় পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন গ্রহণ করছেন। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর জুলাই মাস থেকে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ এককালীন বকেয়া (এরিয়ার) হিসেবে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ কারণে ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর জুলাই মাস থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত বেতন এরিয়ার হিসেবে একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে। এতে চাকরিজীবীদের আর্থিক প্রাপ্য নিয়ে কোনো জটিলতা থাকবে না বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাদের ভাষ্য, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, বিভিন্ন খাতের জন্য পৃথক আদেশ প্রস্তুত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং, বিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) নম্বর গ্রহণ এবং সরকারি মুদ্রণালয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশসহ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা সম্ভব হবে না।
গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারিতে বেশি সময় লাগবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমে বেতন কমিশন গঠন এবং কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর সচিব কমিটি গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। কমিটি গঠনের পর একাধিক বৈঠকে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নিজস্ব সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
এদিকে আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পিছিয়ে রয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে এখনই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টি নিয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে সংস্থাটি নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার বলছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কেএম