দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানব পাচারকারী চক্রের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে তাদের দমন করাই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দারিদ্র্য ও দাসত্বের মতো পরিস্থিতিতে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানা ধরনের শোষণের শিকার হবে।
তিনি বলেন, মানব পাচার বন্ধে সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে উঠতে পারত না। এসব চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষের মাধ্যমেই তৈরি হয়। কার্যকর আইনের শাসন থাকলে তাদের দমন করা সম্ভব।
রিজভীর ভাষ্য, আইনের শাসনের অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ অনেক সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না বা নিজেদের দাবি তুলে ধরতে ব্যর্থ হন। ফলে তারা সহজেই প্রতারণা ও শোষণের শিকার হন।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক মানুষ ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে জমি-জমা বিক্রি করে সর্বস্ব হারান। পরে মানব পাচারের শিকার হয়ে বিদেশে গিয়ে কিংবা পথে আইনি জটিলতায় পড়ে দেশে ফেরত এলে তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।
রিজভী আরও বলেন, মানব পাচারের পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। রাষ্ট্রহীনতা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বাস্তুচ্যুতি এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার অভাবও মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ায়। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষেরা প্রতারক চক্রের ফাঁদে বেশি পড়েন।
তিনি বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এমএম/