দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিমা খাতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা গ্রাহকের দাবি (ক্লেইম) পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
একই সঙ্গে দুর্বল বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে আলাদা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দাবি নিষ্পত্তি, কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু, ইউনিক পলিসি আইডি কার্যকর এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বিমা খাতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রথম কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু করা। দাবি পরিশোধ শুরু হলে ধীরে ধীরে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে এবং তখন পুরো খাতকে স্থিতিশীল করা সহজ হবে।
তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে সংকটাপন্ন সাতটি বিমা কোম্পানির মালিকপক্ষ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে আইডিআরএ। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, বিনিয়োগ ও আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোথাও সম্পদের মূল্যায়নে সন্দেহ থাকলে নতুন করে মূল্যায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে অর্থ একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব থাকবে এবং সেখানে নিরীক্ষক (অডিটর) যুক্ত থাকবেন। পরে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও)’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ আগে যাদের দাবি জমা পড়েছে, তাদের আগে পরিশোধ করা হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে বিমা খাতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দাবি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি কোম্পানির কাছেই প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি আটকে আছে। তাই প্রাথমিকভাবে এই সাতটি কোম্পানিকেই লক্ষ্য করে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্পদ নগদায়নের ক্ষেত্রে চারটি উৎস বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো- ভালো ব্যাংকে থাকা এফডিআর, সরকারি ট্রেজারি বন্ড, বিক্রিযোগ্য জমি এবং অন্যান্য বিনিয়োগ। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে আটকে থাকা আমানতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
কে