দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বাস্তবায়নের অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক চাপে পড়ছেন। ধার-দেনা ও ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ কমবে এবং কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবটি গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য রেশন সুবিধা চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। রেশন সুবিধা চালু হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে এ সুবিধা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি চাকরির ১২তম গ্রেডে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানোর পর বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় আসে।
সুত্র-বাসস
এমএম/