দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে কথা বলতে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফরে এসেছিলেন ব্রিটিশ লেবার অ্যাক্টিভিস্ট অ্যান্ডি হল। তবে কাঙ্ক্ষিত সেই বৈঠকের পর হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এই হতাশা ব্যক্ত করেন।
অ্যান্ডি হল বলেন, ‘আমি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরে একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে অভিবাসন ও উন্নয়ন ইস্যুতে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার আশা এবং আন্তরিক ও আবেগপ্রবণ আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। যদিও আমার সফরের বেশিরভাগ ইতিবাচক ছিল, ৫ জুলাইয়ের প্রধান সরকারি বৈঠকটি আমাকে হতাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ অংশগ্রহণের আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ অভিবাসন, নৈতিক নিয়োগ, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার এবং দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার আশা এবং আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি ১ জুলাই বাংলাদেশে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই সফর ছিল নানাভাবে ইতিবাচক ও মূল্যবান। ২, ৩ এবং ৪ জুলাই, আমি রিক্রুটিং এজেন্সি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিবাসী শ্রমিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক বৈঠক করেছি। এই বিনিময়ের উন্মুক্ততার প্রশংসা করেছি এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক উন্নয়নের পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবার যে অব্যাহত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সে সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি।’
অ্যান্ডি হল বলেন, ‘আমার সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে অর্থবহ সম্পৃক্ততা। সেই কারণে রোববার (৫ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হয়েছেন মো. শাকিরুল ইসলাম খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলি আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমে শুক্রবার বাংলাদেশ ত্যাগ করার আশা করেছিলাম, কিন্তু আজই বৈঠকের আয়োজন করা যাবে বলে জানতে পেরে রোববার পর্যন্ত আমার অবস্থানের মেয়াদ বাড়িয়েছি।’
তিনি জানান, দুর্ভাগ্যবশত, আমি হতাশ বোধ করে সেই সভাগুলো ছেড়ে চলে এসেছিলাম। আমি আরও উন্মুক্ত, বাস্তব এবং সমাধানমুখী আলোচনার আশা করেছিলাম। পরিবর্তে অনুভব করেছি, বৈঠকটি অর্থবহ সংলাপের জন্য বা আমার অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ এবং সদিচ্ছার পুরোপুরি শোনার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষার বিষয়ে আমার দীর্ঘদিনের কাজ ও এই সভায় অংশ নিতে এবং প্রাণবন্ত ও সুন্দর দেশ পরিদর্শনের জন্য আমি যে প্রচেষ্টা করেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে ফলাফলটি ব্যক্তিগতভাবে এবং পেশাগতভাবে হতাশাজনক ছিল।
তিনি বলেন, ‘এই বিবৃতি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নয়। এটি শ্রদ্ধার সঙ্গে করছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি যখন আমরা সবাই অভিবাসন শাসন এবং শ্রমিক সুরক্ষার উন্নতির লক্ষ্য ভাগ করে নেই তখন সৎ প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। যারা সরল বিশ্বাসে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ রয়েছি। তাদের সম্পৃক্ততার কারণেই আমি বিশ্বাস করি, নিরাপদ অভিবাসন এবং নৈতিক নিয়োগে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে। আজ যখন আমি বাংলাদেশ ত্যাগ করছি, তখন মিশ্র অনুভূতি নিয়ে এটি করছি। অনেক ফলপ্রসূ বৈঠক দ্বারা উৎসাহিত হয়েছি, তবে হতাশ যে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পৃক্ততা আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।’
তিনি উল্লেখ করেন, আমার পরবর্তী সফরে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও গঠনমূলক, সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত সংলাপের সুযোগ থাকবে বলে আশা করি।
/অ