দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইন পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ ও নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, যোগাযোগ, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেমন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়নের প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন দরকার এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা সুপারিশ প্রণয়ন করবেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশের ফলে নতুন নতুন মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, যার অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোও আধুনিকায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতা ও আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো প্রণয়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামতও নেওয়া হতে পারে।
সভায় তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/