দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।
প্রতি বছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকাও ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করত। আগের সরকারের সময়ের বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ এখনও পরিশোধ বাকি রয়েছে, যা বর্তমান সরকারকে ধাপে ধাপে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান আপ্যায়ন ভাতা কমিয়ে দিয়েছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা।
এ ছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সংসদে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন এবং অধিবেশন শুরুর পর থেকে পুরো সময় অধিবেশন কক্ষে অবস্থান করেন। বাজেটের বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণসহ আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং জরুরি বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করেন।
গত ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। মঙ্গলবার বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস করে।