দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অভিযাত্রা’।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর বাসভবন থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তার হাতে ছিল বাজেট-সংক্রান্ত নথিপত্র সংবলিত কালো ব্রিফকেস। সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত সহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের পশ্চিম ব্লকের দ্বিতীয় তলায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বিকেল ৩টায় সংসদে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করেন তিনি।
বাজেট বক্তব্যের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট পেশ করছেন।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, নির্যাতিত নারী এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদ ও নির্যাতিত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলন, বিএনপির ভিশন-২০৩০, রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে গোষ্ঠীগত স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় সাধারণ মানুষের সম্পদ কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, জবাবদিহি, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটকে সরকার কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও দেশের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি রূপরেখা হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক মেরুকরণকে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জে আই