দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬–২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই এবার দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ও গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে, যেখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জনগণের পকেট ব্যয় বেশি হওয়ায় ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাজেট বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালুর কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও দায়িত্বহীনতা শনাক্ত করা সহজ হবে।
পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং নতুন কমিশন গঠনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের চলমান সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
এমএস/