দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণগত ত্রুটির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শনিবার (৩০ মে) জমা দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ এ তথ্য জানান।
গত বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে।
জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওয়ার্ডে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এক মা নার্সকে এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখা হয়। কিছু সময় পর গরম অনুভূত হওয়ায় আবার এসি চালু করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সকালে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা দেয়, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় নবজাতকদের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে নিহত শিশুদের স্বজনরা এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের পরিবেশ, অক্সিজেন ও এয়ার সার্কুলেশন ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং নির্মাণ কাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। এতে ওয়ার্ডের নির্মাণসংক্রান্ত কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নবজাতকদের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতক পরিচর্যা ব্যবস্থা, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের মান এবং রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে।
এমএস/