দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহার আগের দিন বৃষ্টির বাগড়ায় বিপাকে পশু ক্রেতা-বিক্রেতারা। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর মগবাজার, মধুবাগ, ওয়্যারলেস, শাহজাহানপুর, গাবতলী ও রামপুরা এলাকায় কোরবানির পশুর খাবার ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে খড়, ভূসি, ঘাস ও গাছের পাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে কোরবানির মাংস প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত চাটাই ও মাংস কাটার কাঠও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় পা ফেলার মতো অবস্থাও নেই। কাদার কারণে পশু ওঠানামা, দেখাশোনা ও কেনাবেচায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সকাল ঝুম বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতার সমাগমও কম দেখা যায়।
অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে রাখা পশুখাদ্যের বস্তা পানিতে ভিজে গেছে। অনেক বিক্রেতা তড়িঘড়ি করে পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে মালামাল ঢাকার চেষ্টা করলেও তাতে পুরোপুরি রক্ষা হয়নি। খোলা জায়গায় রাখা খড় ও ঘাস পুরোপুরি ভিজে যাওয়ায় সেগুলোর বড় অংশ বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
পশু বিক্রেতারা বলছেন, দিনভর বৈরী আবহাওয়া থাকলে বড় ধরনের লোকশান গুণতে হতে পারে। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে আবহাওয়া ভালো হবে এবং ক্রেতারা হাটে ফিরবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।
গত কয়েকদিনের তুলনায় গরুর দর ১০-২০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।
ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই তারা পশুখাদ্য ও কোরবানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী মজুত করেছিলেন। কিন্তু টানা দুই দিনের আকস্মিক বৃষ্টিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে যাওয়ায় ভেজা খাবার পশুকে খাওয়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তাদের আশঙ্কা।
শুধু বিক্রেতারাই নন, ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারাও। পশুর জন্য খাবার কিনতে এসে অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য পাননি। আবার যেসব পণ্য পাওয়া গেছে, তার বেশির ভাগই ভেজা থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন কেউ কেউ। শুকনা খাবারের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে।
এদিকে কোরবানির মাংস প্রস্তুতের জন্য বিক্রি হওয়া চাটাই ও মাংস কাটার কাঠও পানিতে ভিজে গেছে। ব্যবসায়ীরা সেগুলো রোদে শুকানোর চেষ্টা করলেও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ বৈদ্যুতিক পাখা ও কৃত্রিম বাতাসের সাহায্যে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
কেএম