দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহার মাত্র একদিন আগে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরী হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন গরুর বেপারী ও ক্রেতারা। এদিকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরের টানে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। আবহাওয়ার কারণে কিছুটা ভোগান্তি হলেও রেলপথে নির্বিঘ্নেই চলছে ঈদযাত্রা। প্রতিটি ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও ভ্রমণ করছেন অনেকেই। তবে দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ ট্রেনই শিডিউল মেনে চলাচল করছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা সোয়া ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। এবার সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-চট্রগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে নারীদের জন্য আলাদা কোচ দেয়া হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে উচ্ছ্বাস। আবার কেউ অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কথাও বলছেন।
চট্টগ্রামে যাত্রী সোহেল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত ট্রেন ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো।’
আরেক যাত্রী বলেন, ‘ছাদের মধ্যে অনেক যাত্রী আছে। ওইগুলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেছে না। এখানে অনেক ভিড়, এটাই সমস্যা। বাচ্চা নিয়ে যাওয়াটা একটু কঠিনই হচ্ছে।’
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুই একটা ট্রেন ছাড়া সবগুলো ট্রেনই যথাসময়ে ছেড়ে গেছে।’
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে পশুর সরবরাহে ঘাটতি নেই, কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দামের ব্যবধান যেন কিছুতেই কমছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাদা-পানির দুর্ভোগ যানজট আর অব্যবস্থাপনা। প্রতিটা হাটের আশে পাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা যেমন সমস্যায় পড়ছেন তেমনি সাধারণ চলাচলকারীরাও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
রাজধানীতে এবার মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে, যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটির অধীনে ১১টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার গরু রাজধানীতে ঢুকেছে। বড় ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ সব মিলিয়ে রাজধানীর প্রবেশপথগুলো কার্যত পশুবাহী যানবাহনের দখলে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে রাজধানীতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে পশুর হাটগুলোতে কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কাদায় কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও গোড়ালি সমান পানি। বিশেষ করে শেষ রাতের বৃষ্টিতে তাদের বেশি ভোগান্তি হয়েছে বলে বেপারীরা জানান।
শাহজাহানপুর পশুর হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘অনেক হাটে কাদার কারণে দাঁড়ানো যায় না; কিন্তু এখানকার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো।’
কোরবানির ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা বা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের থ্রেট অনুভব করিনি। তবে থ্রেট না থাকলেও আমাদের নিজস্ব যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, সেটি জোরদার রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের প্রধান প্রধান জামাতগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’
কেএম