দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
শনিবার (২৩ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, বর্তমানে হজের সফরে থাকায় বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ নেই। দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পোস্টের কমেন্ট সেকশনে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি উল্লেখ করে এ ইসলামি বক্তা জানান, রামিসার ঘটনা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন তিনি হজের উদ্দেশে ঢাকা বিমানবন্দরে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সংক্ষিপ্ত একটি পোস্ট করেছিলেন। পরে বনশ্রীর একটি মাদ্রাসার আরেকটি ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি আকাশপথে থাকায় নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলেন। সৌদি আরবে পৌঁছে ঘটনাটি জানলেও উমরাহ পালনসহ সফরের বিভিন্ন ব্যস্ততায় বিষয়টি নিয়ে আর মনোযোগ দিতে পারেননি। তবে তিনি অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, ধর্ষক মাদ্রাসার হোক বা মাদ্রাসার বাইরের—তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
আবাসিক মাদ্রাসায় যৌন অনাচারের ঘটনা কমবেশি আছে উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে নীরব থাকলে বা উপেক্ষা করলে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং তা আরও বাড়বে।
তিনি জানান, ২০১৯ সালের এক পোস্টে তিনি কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল—মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য পারিবারিক বাসার ব্যবস্থা ও নিয়মিত ছুটি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন আলাদা রাখা, শিক্ষার্থীদের ঢালাও বিছানার পরিবর্তে আলাদা খাটের ব্যবস্থা করা এবং মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ না দেওয়া।
তবে এসব ঘটনায় গণমাধ্যমে সব সময় সত্য উঠে আসে না বলেও অভিযোগ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার ভাষ্য, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে, এটি যেমন সত্য; তেমনি অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশেল ঘটায়। আবার কোথাও কোথাও অন্যকে রক্ষা করতে দুর্বল ইমাম বা আলেমকে ফাঁসানো হয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ফরেনসিক পরীক্ষার পর মুক্তি পান। পরীক্ষায় দেখা যায়, কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে ইমামের নয়, বরং কিশোরীর বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল রয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, বড় ও প্রভাবশালী মাদ্রাসাগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ তুলনামূলক কম শোনা যায়। বরং মূলধারার বাইরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট মাদ্রাসায় এ ধরনের ঘটনার কথা বেশি শোনা যায়।
তবে ছোট বা বড়—যেকোনো মাদ্রাসায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলেম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে। কোথাও এ ধরনের অভিযোগ উঠলে কমিশনটি সেখানে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন তিনি কোনো মাদ্রাসায় চাকরি নিতে না পারেন, সেজন্য তাকে ব্ল্যাকলিস্ট করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। আর অভিযোগ ভিন্ন ধরনের হলে সেটিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি মনে করেন, এতে একদিকে যেমন এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে, অন্যদিকে কোনটি বাস্তব ঘটনা আর কোনটি ষড়যন্ত্র; সেটিও স্পষ্ট হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি নিয়ে বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
কে