দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত উৎপাদনের পথে বড় ধাপ এগোল দেশের সবচেয়ে বড় জ্বালানি প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একবার জ্বালানি লোড করলে তা দিয়ে টানা ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরে এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি প্রতিস্থাপন করতে হবে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে এখন জ্বালানি স্থাপন করা হচ্ছে। এ ইউনিটের চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ রড। বাংলাদেশ এরইমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি সংরক্ষণে রাখা হবে।
ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপনে সময় লাগবে ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জ্বালানি স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এ ধাপ শেষ হবে। এরপর দুই মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুর চালু হলে এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দিগন্তই খুলবে না, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও বড় মাইলফলক হবে।
প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে রাশিয়া। মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দেশটি, যা ২৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। রোসাটমের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে।
এমএস/