দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর করা ঠিক হবে না তবে অন্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে-এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পায়রা-কুয়াকাটাকে ঘিরে ইকো ট্যুরিজমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বলেন, বিশাল এ এলাকা ঘিরে সুনীল অর্থনীতির আওতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে সেই ব্যবস্থা নেবে সরকার।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভৌগলিক গুরুত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে সরকার কর্তৃক পৃথক একটি ‘উপকূল বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হবে কিনা? জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। এ ছাড়াও ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি-২০০৫’ প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমান সরকার Maritime Spatial Planning (MSP) বা সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলের বিশাল অঞ্চলগুলো জুড়ে বড় সংখ্যার জনগোষ্ঠী বাস করছে। বিশাল এ এলাকা ঘিরে সুনীল অর্থনীতির আওতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। এর বিশালতার কারণে ফল লাভে সময় লাগলেও সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে ওই এলাকার মানুষের পাশাপাশি দেশও উপকৃত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন খাত এগিয়ে নিতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। এর অংশ হিসেবে কুয়াকাটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুয়াকাটায় গিয়েছিলাম। ওই এলাকা নিয়ে আমার স্বাভাবিকভাবে দুর্বলতা আছে। পায়রা-কুয়াকাটাকে ঘিরে ইকো ট্যুরিজমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা নিয়ে অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান করা হচ্ছে, এটা বাস্তবায়ন হলে সেখানে পর্যটন শিল্প তরান্বিত হবে।
দেশের বহু এলাকা নদী ভাঙনের শিকার। বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল। নদী ভাঙন সমস্যা দূর করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার এ কাজ আবারও শুরু করেছে। নদী ভাঙন রোধে নদীশাসনের জন্য খাল খনন যেমন জরুরি, তেমনি বর্ষায় পানিপ্রবাহ ছড়িয়ে দেয়া যাবে খাল খননের মাধ্যমে বলেও জানান তিনি। সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর করা ঠিক হবে না, অন্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। তবে বেসরকারিভাবে কোনো এয়ারলাইন্স যদি কুয়াকাটায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে অবকাঠামো গড়ে দিবে সরকার। কিন্তু লোকসানি প্রকল্প করে জনগণের ওপর চাপ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
বেসরকারি স্কুল পরিচালনার বিষয়ে সরকারের গাইডলাইন আছে। সেভাবেই ওই স্কুলগুলো পরিচালিত হয়। বিদ্যমান গাইডলাইনে সংসদ সদস্যদের যদি কোনো পরামর্শ থাকে তাহলে সেটি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ১৮০দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সেভাবে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন মঙ্গলবার কৃষক কার্ড প্রদান তার অন্যতম উদাহরণ। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার কথা বলা হয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপনসহ সরকারের নানা পরিকল্পনায় কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হবে সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
কে