দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদের ছুটি এলেই ঢাকার অনেক ফ্ল্যাট ফাঁকা হয়ে যায়। কেউ যান গ্রামের বাড়িতে, কেউ আত্মীয়ের কাছে, কেউবা ভ্রমণে। উৎসবের এ স্বস্তি ও ফাঁকা সময়টাকে সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় দুর্বৃত্তরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে বাসাবাড়িতে প্রতিবছরই তালা ভেঙে বা গ্রিল কেটে চুরি এবং ফাঁকা বাসায় ঢুকে মালামাল লুটের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব পরিবার আগেভাগে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেয় না কিংবা ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয় না, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে।
এ ছাড়া ঈদযাত্রা ও কেনাকাটা ঘিরে বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকাতেও সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন অপরাধী চক্র। এবার যেহেতু ঈদের ছুটি টানা সাত দিন। তাই বাসা ছাড়ার আগেভাগেই কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিশ ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশ বলছে, চোরেরা সাধারণত আগে থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে। কোনো বাসা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে কি না, বাসার নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন, ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না, দারোয়ান কতটা সতর্ক—এসব খোঁজ নিয়ে চোরেরা সুযোগ খোঁজে। আবার অনেক সময় অস্থায়ী গৃহকর্মী, ডেলিভারি ম্যান, মিস্ত্রি বা অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে চলে যায়। ফলে কেবল তালা লাগালেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; দরকার সামগ্রিক সতর্কতা।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে বাসা ফাঁকা রেখে গেলে কিছু বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করা উচিত। বাসার প্রধান দরজার পাশাপাশি বারান্দার দরজা, রান্নাঘরসহ অন্যান্য জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না। রান্নাঘরের গ্রিল ঠিকঠাক আছে কি না, এসব পরীক্ষা করে বের হতে হবে। দরজায় মানসম্মত তালা লাগাতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত লক, চেইন লক বা ডিজিটাল লক ব্যবহার করা ভালো। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেগুলো সচল আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তাকর্মীদের বলে যেতে হবে, যেন অপরিচিত কাউকে যাচাই ছাড়া ভবনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।
ঈদ সামনে রেখে নগরবাসীকে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। নগরবাসীর প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যাওয়া। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে এসব মূল্যবান জিনিস থানায়ও রাখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ঈদবাজার ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আলাদা সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কেনাকাটার ভিড়ে মুঠোফোন, মানিব্যাগ, ব্যাগ বা গয়না নিয়ে অসতর্ক থাকলে ছিনতাই বা চুরির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য এই সময়ে বড় অঙ্কের টাকা বহন না করা, সম্ভব হলে ডিজিটাল লেনদেন করা, নির্জন এটিএম বুথ ব্যবহার না করা এবং টাকা তোলার সময় আশপাশে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা টার্মিনালে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
পুলিশ বলছে, গৃহকর্মী, চালক, দারোয়ান বা ভাড়াটের তথ্য সংরক্ষণ করাও জরুরি। অনেক সময় ভুয়া পরিচয়ে কেউ কাজ নেন এবং পরে অপরাধে জড়ান। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি, মুঠোফোন নম্বর ও স্থায়ী ঠিকানা সংরক্ষণ করা দরকার। ভাড়াটে বা অস্থায়ী কর্মচারীর তথ্য থানায় বা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার কাছে জমা দেওয়ার সংস্কৃতি জোরদার করাও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হতে পারে।
নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ বড় উৎসব। কিন্তু এ সময়ে অপরাধীদের জন্য সুযোগের মৌসুম হয়ে দাঁড়ায়, যদি মানুষ অসচেতন থাকে। তাই ব্যক্তি, পরিবার, ভবন কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় পুলিশ—সব পক্ষের সমন্বিত সতর্কতাই পারে চুরি ও অপরাধের ঝুঁকি কমাতে।
কে