দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সোমবার সকাল থেকে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ভোর থেকে অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশ কিছু জিনিসপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরকে দেশের ভেতরে আরেক দেশ বলা হতো। দেশের ভেতরে দেশ থাকতে পারে না। এখানে আমাদের ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অভিযান শুরুর পর থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথেই তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান চলাকালে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের অভিযানে হামলার অভিজ্ঞতা থাকায় এবার কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকাটির সব প্রবেশ ও বাহিরের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে ডগ স্কোয়াড কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব এবং ১২০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান।
গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করে র্যাব। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। এতে ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার পশ্চিমে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য ও দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় প্রধানত দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করেন।
তবে র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই এবং এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
এমএস/