দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রোগীদের বিছানাভর্তি ছারপোকা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং নিম্নমানের খাবারসহ নানা অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।এসময় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রোগীরা মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পরিবেশে টিকে থাকা দায়। বিশেষ করে বিছানায় প্রচুর ছারপোকা থাকায় রাতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া তেলাপোকা ও মশার উপদ্রবে খাবার ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রক্ষা করা যাচ্ছে না।
একপর্যায়ে রোগীরা মন্ত্রীকে রক্তমাখা বিছানা দেখান। এ দৃশ্য দেখে বিস্মিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ছারপোকার পেট ভর্তি রক্ত, এই অবস্থায় রোগীরা ঘুমাবে কীভাবে?’
পাশ থেকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত পরিচালককে সতর্ক করে বলেন, দেড় মাস ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ চললেও হাসপাতালের এই বেহাল দশা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শন করে খাবারের মান ও রুটির মেয়াদ যাচাই করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রোগীরা জানান, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা খাবার এতটাই নিম্নমানের যে তা মুখে তোলা যায় না। বাধ্য হয়ে অনেককেই বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। স্বজনরা অভিযোগ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এসময় অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, ‘এতো তেলাপোকা আর ছারপোকা যে সামলানো যাচ্ছে না। আমরা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়েছি, কিন্তু সুফল পাচ্ছি না।’
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সরকার স্বাস্থ্যখাতে যথাযথ সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। যেকোনো ধরনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবি/