দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাত ১২টার আগেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল হাতে শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে জনসমাগম।
রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
এর আগে রাতে প্রথম প্রহরে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জেএসডিসহ বিভিন্ন দল পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ মিনারে অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার-ফেস্টুন। এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি ভাষাশহীদদের স্মৃতি উজ্জীবিত করে তোলে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস পালন করা হয়। দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এবি/