দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তিন মাস আলাপ-আলোচনা করেও দেশের স্বার্থ রক্ষা না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারার চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
এই বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত চুক্তির ধারে কাছে আমরা নেই। কারণ, কঠিন বিষয়গুলো এগ্রিমেন্ট-ডিজএগ্রিমেন্টের বিষয় আছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমাদের আর সময় নেই এটা করার। এই বন্দরকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, পাশাপাশি অগ্রগতি বাড়াতে হলে ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যা কিছু আছে, আরও ইন্টারন্যাশনালাইজড হতে হবে। আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ইন্টারন্যাশনালাইজড কানেক্টেড না। আমাদের এখান থেকে কলম্বো পোর্টে যেতে হয়, না হয় সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেখান থেকে আবার জাহাজ বা মাদার ভেসেলে উঠে।
তিনি বলেন, দুনিয়ার সব জায়গায় বিভিন্ন বন্দরের আঙ্গিক পরিচালনায় মডার্নাইজেশন (আধুনিকায়ন) এসেছে এবং বাইরের এক্সপার্ট কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে। যেমন পার্শ্ববর্তী দেশে পাঁচটা না সাতটা... পাকিস্তানের তার মূল বন্দর হচ্ছে করাচি, সেটাও এখন তারা চুক্তি করছে। সেই জায়গাতে এই বিষয়টি নিয়ে এত হইচই কেন করা হচ্ছে আই ডোন্ট নো (আমি জানি না)।
প্রায় তিন মাস এই নেগোসিয়েশন চলেছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তিন মাস নেগোসিয়েশনে আমরা যেই জায়গায় আসছি, সেই জায়গায় আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। বারবার বলেছি যে আমাদের স্বার্থ রক্ষা না হলে আমরা এই চুক্তি করতে পারছি না। এই জায়গাতে হার্ডলাইন আলোচনা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা চলছে। সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই যে যেখানে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না, সেখারে চুক্তি করতে যাবে।
আন্দোলনকারীরা তো বলছেন যে এটা একটা লাভজনক বন্দর, তাহলে সরকার সেটা বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বন্দর চালালে তো লাভজনক হবেই। আমি একটা বন্দর বানাব দেশে, আমি কি লাভজনক করব না? তো আমার লাভ যদি... যা আছে তার থেকে যদি চারগুণ করতে পারি, তাতে অসুবিধা কী?
উপদেষ্টা আরও বলেন, বন্দর বিদেশি হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা এমন স্লোগান দেন, তাহলে আমি বলবো, তারা জেনেশুনে বিভ্রান্ত করছেন, অথবা তাদের কোনো আইডিয়া নেই। একটা বন্দর দুই রকমে চলতে পারে। একটা হচ্ছে, আপনি নিজে বানালেন বেসরকারিভাবে। বেসরকারিভাবে আপনি বিদেশিরে বানিয়ে দিলেন তারাই চালাচ্ছে। চিটাগং পোর্ট ইজ ন্যাশনাল পোর্ট। এখানে আপনারা জানেন যে বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে।
একটা তো নতুন তৈরি করছে, সেটা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবকে। বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে। এই টার্মিনাল তিনটাই হচ্ছে চিটাগং পোর্টের মূলপথ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এবি/