দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রমে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে নরওয়ে সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য এই অনুদানকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
রোববার ইউএনএইচসিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই অর্থ ২০২৫-২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটির বৈশ্বিক বাজেট সহায়তার অংশ হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে, যা জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম চালু রাখা এবং ক্রমবর্ধমান মানবিক ও সুরক্ষা চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে, ফলে ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা ও আশা বজায় রাখতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
নরওয়ের এই অনুদান শরণার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়িয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে এবং স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মনোবল ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআর শরণার্থী সুরক্ষায় অভিন্ন অধিকারভিত্তিক ও নীতিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে। রোহিঙ্গা সংকটে এর অর্থ হলো মর্যাদা ও অধিকারের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ করা। তিনি বলেন, মানবিক নীতি মেনে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রমে সহায়তা দিতে পেরে নরওয়ে গর্বিত।
নরওয়ে SAFE+2 কর্মসূচির মতো যৌথ উদ্যোগেও সহায়তা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এতে কাঠের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ক্যাম্পের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে।
বিশ্বের মোট শরণার্থীর ৭১ শতাংশই বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তুচ্যুতির বোঝা কমাতে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত ও টেকসই সহায়তা প্রয়োজন, যা মানবিক তহবিল সংকটে আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে ইউএনএইচসিআর ও তার অংশীদাররা ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে নরওয়ে ইউএনএইচসিআর ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মূল সহায়তা হিসেবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে, যা প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে শরণার্থী আশ্রয়ে সহায়তা করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এমএস/