দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রতীকী মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বাংলা একাডেমির সম্মতি নিয়েই একাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মেলার উদ্বোধন করা হবে এবং চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এছাড়া একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও বক্তৃতাসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন চলবে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি বইমেলা নয়—বরং একুশের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে ধারণ করে একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদও।
একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সরকার অমর একুশে বইমেলার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভেঙে এ বছর ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হাজার হাজার লেখক, শিক্ষার্থী, পাঠক, সৃজনশীল প্রকাশক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ ব্যাপক জনগণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরিষদের নেতারা বলেন, অমর একুশে বইমেলা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই বইমেলা আজ বিশ্বপরিসরেও স্বীকৃতি ও গুরুত্ব অর্জন করেছে, যার প্রমাণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি।
পরিষদ জানায়, বাংলা একাডেমি গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা করার দাবিতে লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের নিয়ে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়।
বইমেলা কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলে তারা মনে করে না। তাদের ভাষ্য, পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করে নির্বাচনের দিন ও তার আগে–পরে আরও দুই দিন মেলা বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন বলে সংগ্রাম পরিষদের লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বহু জীবনের বিনিময়ে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ এটা প্রত্যাশা করে না।
এবি/