দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার মেলায় পণ্য বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
রপ্তানি আদেশ পাওয়া আটটি দেশের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এসব দেশে রপ্তানির জন্য অর্ডার পাওয়া পণ্যের মধ্যে বহুমুখী পাটজাত পণ্য, তাঁতবস্ত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কসমেটিকস এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উল্লেখযোগ্য।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
আগামীতে বাণিজ্যমেলা আয়োজনের সক্ষমতা ও পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধান অতিথি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ভবিষ্যতে কাঠামোগত পরিধি বাড়ানোর লক্ষে গণপূর্ত বিভাগের ৬ একর জমি ইপিবি’র অনুকূলে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। প্রয়োজনে সেখানে বহুতল ভবন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও চব্বিশের জুলাই-আগস্টে আত্মত্যাগ করা শহীদ ও আহত বীরদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছি। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টার সুযোগ্য নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই লক্ষেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই আজ দেশের জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ও আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষা।’
এবারও মেলার যাতায়াত সংকটের স্থায়ী সমাধান না করতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘সড়ক সংস্কারের যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। আগামীতে মেলায় ভ্রমণ আরও বেশি আনন্দদায়ক হবে বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, এ মেলায় গৃহস্থালি, শিল্প, সম্ভাব্য রপ্তানি ও ভোগ্যপণ্যের সম্ভার নাগরিকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ। সবকিছুর একত্রিত সমাবেশ দেশের জাতীয় সক্ষমতা সম্বন্ধেও নাগরিককে ধারণা দেয় এবং তা সামগ্রিকভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।
‘যে অনুপ্রেরণার বিনিময়ে ভবিষ্যত বংশধররা বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তায় যেন মগ্ন হতে পারেন। আমরা সম্ভবত সবটা করতে পারিনি। কিন্তু আমরা সেখানে যেতে চাই। এই যাওয়ার জন্য আমরা একটা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ করতে চাই।’
শেখ বশিউদ্দীন বলেন, ‘দেশে বেশকিছু পণ্য উৎপাদিত হয় যারা মেলায় অংশগ্রহণ করেন না। যারা বিক্রি নয়, প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে আসেন তাদের সাশ্রয়ী কিংবা বিনামূল্যে আমন্ত্রণ জানাতে পারি কিনা, তা আগামী বোর্ডসভায় উত্থাপন করা উচিত। তাদের পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের উপরে নির্ভর করে এই প্রদর্শনী জাতীয় সক্ষমতা নিরূপণ করার জন্য অসম্ভব জরুরি।’
এখন থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নতুন উদ্ভাবিত পণ্য মানুষ কিনতে চান। এই জিনিসটাকে ইপিবি কীভাবে আরও নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখারও তাগিদ দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হুসাইনসহ অন্যরা।
এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয় ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
মেলায় কারা অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ টি-বোর্ডের বেশকিছু পণ্য নতুন হিসেবে উল্লেখ করে ইপিবি।
এ ছাড়া মেলায় অংশগ্রহণ ও পণ্যের মান বিবেচনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।
এবি/