দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুর বনগ্রামে আসলে তার গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম খান।
তিনি ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সমর্থক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে এ সংক্রান্ত ৫ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মো. রবিউল ইসলাম খান নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়ন বনগ্রামের বাসিন্দা। তিনি পুরাপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডটির এক প্রান্তে কথা বলেন মো. রবিউল ইসলাম খান এবং অপর প্রান্তে কথা বলেন একই গ্রামের বাসিন্দা রিকশা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহ আকরাম আলীর সমর্থক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাওলানা শোয়াইব ইসলাম।
ভাইরাল হওয়া ওই কল রেকর্ডের দীর্ঘ আলাপচারিতার একপর্যায়ে ইউপি সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ধৈর্য হারিয়ে এই হুমকি দেন।
ভাইরাল হওয়া ওই কল রেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই গ্যারান্টি দে তোর ধলা হুজুর এমপি হবে। তাইলে আমাদের ভোটও দিবানে। তোর যদি এতই ভোট দেওয়ার দরকার হয়, তুই নিজের ভোট দে। আমি তোকে একটা কথা বলি—হুজুরকে আনার দরকার নাই। হুজুর এখানে আসলে আমার সমস্যা আছে।’
ওই কথোপকথনে তিনি আরও বলেন, ‘তুমি তোমার মতো চলো, আনার দরকার নাই। আনার সময় যদি ঝামেলা হয়, সেটা ঠেকাবেনে কিডা?’
৫ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড কথোপকথনের শেষ পর্যায়ে ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ধলা হুজুর ক্যা, তোর ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিবানে জ্বালাইয়া।’
কল রেকর্ডের অপর প্রান্তে আকরাম আলীর সমর্থককে বলতে শোনা যায়, ‘গণতান্ত্রিকভাবে এই দেশে আমার রাজনীতি করার অধিকার আছে। পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে আমার বাঁচার অধিকার আছে। আমার মতে চলার অধিকার আছে।’
কথার শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমার গর্দান (গলা) মাথায় থাকতে আমি হুজুরকে আনবো।’
প্রসঙ্গত, এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীকে নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম নামে একটি গ্রামে একটি দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে ওই গ্রামে আনতে চান তার সমর্থক মাওলানা শোয়াইব। তাকে আনতে বাধা দেন ইউপি সদস্য ও ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদের সমর্থক রবিউল ইসলাম। এ সংক্রান্ত তাদের এই দীর্ঘ মোবাইলে কথোপকথনে এই হুমকি দেন রবিউল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোরপূর্বক ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চাচ্ছিল। ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই চাচ্ছে না, সেখানে জোর করে কেন যাবেন। আমার বক্তব্য এআই দিয়ে এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন বলেন, বাড়াবাড়ি ভালো না। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে এবং প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবশ্যই জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তি (রবিউল ইসলাম) গত ১৭ বছর ধরে ধরে আওয়ামী লীগ করেছে। এখন গা বাঁচানোর জন্য আমাদের সাথে যোগ দিয়ে অতি বিএনপি সেজেছে। আমরা যা করতে মানা করি তা সে করে বেড়ায়। আমরা পুলিশকে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।
নগরকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানী আজাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমি অডিওটি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কে