দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর্থিক সংকট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে (পে-কমিশন) তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না হলেও একটি ফ্রেমওয়ার্ক ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হবে। কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বর্তমান সরকারের কাছে, যা পরে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পে-কমিশনের একটি দীর্ঘ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন সূত্র জানায়, সরকারের হাতে সময় কম থাকায় বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে না। তবে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি কাঠামো চূড়ান্ত করে তা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
সূত্র আরও জানায়, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন কাজ চালালেও ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের আগে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল নির্ধারণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি পে-কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত।
এদিকে কমিশনের অপর এক সূত্র জানায়, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোতে ‘১:৮, ১:১০, ১:১২ ও অন্যান্য বিকল্প রাখা হয়েছে। এই অনুপাতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্কেলের মূল বেতন বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মজীবীর বেতন যদি এক টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। আরও পরিষ্কারভাবে বললে, ১০০ টাকা বেতন ধরে ১:৮ অনুপাতে সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেডের বেতন ১০০ হলে সর্বোচ্চ হবে ৮০০ টাকা। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়।
কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ দেওয়াই এ কমিশনের মূল কাজ। কর্মচারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ছয়জন ধরে আর্থিক ব্যয়ের হিসাব করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম সভা থেকে শুরু করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে কমিশন। গত মাসের ১৪ তারিখ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ এই কমিশনের মেয়াদ ৬ মাস পূর্ণ হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে।
অবশ্য অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। এ ক্ষেত্রে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হলো, সময় উপযোগী একটি বেতন কাঠামো ঘোষণা করা। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও চলছে। আমরা সময় পেলে ঘোষণা করে যাব। আর সেটা নতুন সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে।
আরএ