দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে সরকার ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
শুক্রবার আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়। গেজেট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের বিদ্যমান আইনে ব্যাপক সংশোধনের মাধ্যমে নতুন এই অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘যাত্রীসেবা’ শব্দটি আইনের শিরোনাম ও প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এবং সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি বা জিএসএ-এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের ফি, চার্জ, রয়্যালটি ও ভাড়ার হার নির্ধারণে সরকারকে সুপারিশ করবে।
এয়ার অপারেটরদের তাদের সব রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অস্বাভাবিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।
নতুন বিধানে বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে জিএসএ হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যাতে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি না হয়।
অধ্যাদেশে টিকিট বিক্রির ডিজিটাল মাধ্যম যেমন অ্যাপ, ওয়েব পোর্টাল ও জিডিএসকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এসব ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট বা আসন ব্লকিংয়ের মতো অনিয়ম ঠেকাতে চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিক নজরদারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের নিবন্ধন বাতিল বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
এমএস/