দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং তার পরিবারের নামে নিবন্ধিত চারটি ফ্ল্যাটে মালামাল প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে মালামালগুলো ত্রাণ হতবিলে জমা দেওয়া হয়। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে এসব মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে দুদক ঢাকার গুলশান-১ এলাকার র্যাংকন আইকন টাওয়ারে বেনজীর পরিবারের নামে থাকা ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করে।
এসব ফ্ল্যাটে সংরক্ষিত পচনশীল মালামাল, ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত কাপড়-চোপড়, তৈজসপত্র এবং রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রী হস্তান্তরের নির্দেশ দেন আদালত। মালামালের মধ্যে রয়েছে শার্ট-প্যান্ট, লুঙ্গি-গেঞ্জি, ওড়না-শাড়ি, জুতা-অন্তর্বাস, কাঁথা-বালিশ, টিভি-ওভেন-ডিশ ওয়াশার, রান্নাঘরের হাড়িকুড়ি, থালা-গ্লাস, পাটা-পুতা এমনকি মশা মারার ব্যাটও।
শুনানিতে দুদকের পক্ষে উপস্থিত পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতকে জানান, এর আগে আদালতের নির্দেশে একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মালামাল নিলামের জন্য একটি প্রকাশ্য নিলাম কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিশনের ২৫/২০২৫ নম্বর সভায় সিদ্ধান্ত হয়—জনবহুল আবাসিক এলাকায় নিলাম আয়োজন নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিপূর্ণ। বিপুল পরিমাণ নতুন ও পুরোনো মালামাল তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে কিছু জিনিস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় নিলামের পরিবর্তে এসব মালামাল ত্রাণ তহবিলে দেওয়া যুক্তিসংগত।
এ অবস্থায় নিলামযোগ্য মালামালের আলামত নমুনা সংরক্ষণ করে বাকি মালামাল প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়।
দুদকের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নিয়োগকৃত রিসিভারকে নির্ধারিত মালামাল ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়ে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
এ আদেশের অনুলিপি দুদকের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন), দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবি/