দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই ও জেআইসি সেলে গুম-খুন এবং জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় তাদের হাজির করা হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তবে কতজনকে হাজির করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি হবে। তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ১৭, আরেকটিতে ১৩ এবং অপরটিতে চারজন আসামি। ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে আছেন।
সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন ও পল্টন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও হাইকোর্টের মাজারগেট এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের দিন ধার্য ছিল বুধবার। তারা না এলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো। হাজির হলে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ।
গত ৮ অক্টোবর টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। একই দিন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে হাসিনা ও তারিকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
সব মিলিয়ে তিন মামলায় মোট ২৫ সেনা কর্মকর্তা আসামি হিসেবে রয়েছেন। সেনা সদর জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৫ জনকে ৯ অক্টোবর হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন। তিনি অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হাজিরের নির্দেশের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে এবং আজকের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ দেয়।
এমএস/