দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা বলেছেন, গত বছর জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে, বিরাজিত পরিস্থিতি তা ধারণে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা শঙ্কিত এ কারণে যে অব্যাহত ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে’ বিপর্যস্ত ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় এই নতুন পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এভাবে চলতে পারে না।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শনিবারের শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।
পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভাপতি বাসুদেব ধর, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, সহ-সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত ও পরিকল্পিত অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অতি সম্প্রতি লালমনিরহাট ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঘটনা উল্লেখ করতে হয়। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই নতুন কৌশল গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কেউ যদি ধর্ম অবমাননা করেন, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, তার বিচার ও যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তারা; কিন্তু এর আগে নিশ্চিত হতে হবে, কাজটি সত্যিই তিনি করেছেন কিনা। দুঃখের সঙ্গে তারা লক্ষ্য করছেন যে, নিশ্চিত হওয়ার আগেই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে নির্বিচারে পাড়ার পর পাড়ায় হামলা চালানো হচ্ছে। লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রকাশ্যে।
এতে আরও বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এসেছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা সেদিন ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশকে একটি পরিবার হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বেদনার্ত চিত্তে লক্ষ্যে করা গেছে, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত প্রায় এক ডজন কমিশনের মধ্যে দুটিতে মাত্র দুজন সংখ্যালঘু সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনে সংখ্যালঘুদের কোনো অবস্থান নেই। সংখ্যালঘুদের কথা শুনতে চাওয়া হয়নি। এই প্রবণতা এক পরিবারের ধারণার সঙ্গে যায় না।
এক প্রশ্নের জবাবে পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংখ্যালঘুদের জীবনাচরণ হুমকির সম্মুখীন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারীরা রাস্তাঘাটে বের হলে নানাভাবে কটূক্তি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে আরও অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় সংখ্যালঘুরা হীনম্মন্যতায় ভুগছেন।
জন্মাষ্টমীর দুই দিনের উৎসব উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, শনিবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি প্রতি বছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
আরএ