দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলেও এগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সংকট দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে টিআইবি।
সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব মন্তব্য করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অগাস্টের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের আগেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে ধীর গতি আছে বলেও মনে করি টিআইবি।
এক বছরের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা। মব জাস্টিস ও গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
ঢালাওভাবে মামলায় আসামি হিসেবে নাম দেওয়া, গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ বাড়লে গ্রেপ্তার বৃদ্ধির অভিযোগ বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু অব্যাহত আছে।
আন্দোলন দমন করতে পুলিশের কার্যক্রমে বৈষম্য-কোনো পক্ষের প্রতি নমনীয় মনোভাব, কোনো পক্ষের ওপর নির্যাতন হয়েছে বলেও মনে করে টিআইবি।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিরতা ও কোনো সংকটের শঙ্কা রয়েছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন “এখন তো একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অস্থিরতা যেকোনো সময় হবে না, তা বলা যায় না।”
এনবিআর সংস্কারের উদাহরণ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোথাও কোথাও সংস্কারের নাম করে আরো বেশি অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে।
এফএইচ/