দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিজিআর প্রতিষ্ঠা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা একটি বহিঃপ্রকাশ। দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রেজিমেন্ট একটি সুশৃঙ্খল, পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এ ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রহণ করুন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বর্তমান পর্যায়ে এসেছে, তাদের প্রতিও রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিবসহ পরিবারের শহীদ সদস্যদের। সশস্ত্র চিত্তে স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি, জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও বিদেশি বন্ধুসহ সব স্তরের জনগণকে। যারা আমাদের অধিকার আদায় ও মুক্তি সংগ্রামে অসামান্য অবদান রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সব খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ও গুরুত্ব আরোপ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখতে বঙ্গবন্ধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষায়িত রেজিমেন্ট হিসেবে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।
সাহাবুদ্দিন বলেন, বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান যুগে ভিআইপিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে, আপনাদের ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগ উপযোগী প্রশিক্ষণ ও কৌশল মতো উৎকর্ষ অর্জন করতে হবে। পিজিআরের প্রতিটি সদস্যকে হতে হবে আরও চৌকস ও দক্ষ। দায়িত্বের গুরুত্ব ও পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সাংগঠনিক কাঠামো বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাহিত্যের ব্যাপকতা বিবেচনা করে এ রেজিমেন্টকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমি আশা করব, আপনারা চেইন অব কমান্ডের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল থেকে আপনাদের ওপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের মান ও সক্রিয়তা বজায় রেখে রেজিমেন্টের অর্জিত গৌরব সমন্বিত রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ডস অব রেজিমেন্ট আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী নিয়ে গঠিত একটি বিশেষায়িত অংশ। যেখানে আমি আমাদের চৌকস সেনাবাহিনীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর সুনাম আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিধিত।
আমাদের সেনাবাহিনী জাতীয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে, এটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।