দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ব প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। এবারের মূল বার্তা ছিল- Ask me about PE অর্থাৎ প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন, জানুন।
দিনব্যাপী কার্যক্রমের সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এতে অংশ নেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল আলম, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. আসাদুজ্জামান, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রাশিদা খানম, মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা ইউনিট প্রধান অধ্যাপক নাসরিন আক্তারসহ শিক্ষক, চিকিৎসক, সেবিকা ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীরা।
ঢামেকের মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা ইউনিটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকাটিতে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া রোগের লক্ষণ, চিকিৎসার পদ্ধতি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। নাটিকাটির রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরিফা শারমিন মায়া।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সঠিক তথ্য ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিলে ভবিষ্যতে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া থেকে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। আজকের দিনে আমরা অঙ্গীকার করি—সচেতনতা ছড়াব, মায়েদের পাশে থাকব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করব।
উল্লেখ্য, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া একটি গুরুতর গর্ভকালীন সমস্যা, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতির মাধ্যমে দেখা দেয়। বিশ্বজুড়ে বহু মা ও নবজাতকের মৃত্যু বা জটিলতার পেছনে এই রোগ দায়ী। আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর ২য় অন্যতম কারণ হলো এক্ল্যাম্পসিয়া। এটি এমন একটি গর্ভকালীন রোগ, যা অনেক সময় পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই দেখা দেয়। কিন্তু যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায় এবং যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়, তবে বহু জীবন রক্ষা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময়ে গর্ভকালীন চেকআপে আসলে তার উপসর্গ, ওজন, রক্তচাপের মাত্রা, রোগীর আগে থেকে অন্য কোনো ক্রনিক রোগ (ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ) আছে কিনা, পরিবারে করো হাই প্রেসার ছিল কিনা বা ডেলিভারির সময় খিঁচুনি হয়েছিল কিনা এসবের ওপর ভিত্তি করে একটি রিস্ক মডেল রয়েছে যাকে Gestosis score বলে। স্কোর ৩ এর সমান বা বেশি হলে সেই মায়ের পরবর্তীতে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সময় সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী একটি ওষুধ যদি রোগীকে দেওয়া যায় তাহলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরএ