দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শাহীন কবির। সেলেসটিয়াল টেক লিমিটেড নাম দিয়ে বিআইডব্লিওটিএ’র একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিআইডব্লিওটিএ তে পানি উন্নয়নবোর্ড এবং চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি, ডিডব্লিওর ৫ লটে ট্রেনিং, সার্ভে ও যাত্রীবাহী বোট সরবরাহের প্রায় শত কোটি টাকার কাজ নেন। কিন্তু মানসম্মত কাজ না করায় বিআইডব্লিওটিএ কোম্পানিটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। একই সঙ্গে সেলেসটিয়াল টেক লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করে সরকারি ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কাস লিমিটেড।
তারপর কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মাল্টিবিম করপোরেশন নামে প্রতারণা শুরু করেন শাহিন কবির। মার্কেটিং ম্যানেজারের পদ তৈরি করে প্যাট্রিক বেলেন নামে একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে শত শত কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নেন তিনি। যে স্বাক্ষরের সঙ্গে প্যাট্রিক বেলেনের পাসপোর্টরে স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই। মূলত প্যাট্রিক বেলেনকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানাজার সেলস সাজিয়ে নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ৩’শ কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নেন শাহীন কবির।
এসব অনিয়ম নিয়ে ২০২৩ সালে দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচার করে দেশ টিভি। যেখানে শাহিন কবিরের এমন ভয়াবহ প্রতারণা তুলে ধরে সংবাদ মাধ্যমটি।
কথায় আছে চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। কৌশল পরিবর্তন করে দুই বছর পর দেশ টিভির সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দেয় মাল্টিভিম করপোরেশন। যেখানে বার্তা প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারুক হোসেন, প্রতিবেদক শাহাদাত নিশাদকে আসামি করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এ প্রতিষ্ঠান হঠাৎ দুই বছর পর কেন মামলা করল? এমন ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। জানান, আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে এখন কেলেঙ্কারি ঢাকতে ও নিজেদের সাধু প্রমাণ করতে এমন মামলা অপকৌশল।
একই সঙ্গে এসব মানহানিকর মামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম। স্বৈরাচার সরকারের আমলে সুবিধা নেওয়া মাল্টিবিম করপোরেশনের মত প্রতিষ্ঠানকে কারা শেলটার দিচ্ছে তাদেরকেও খুঁজে বের করা উচিত।
একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা যেন স্বৈরাচার সরকারের আমলের মত হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও সরকারকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এফএইচ/