দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রেলওয়ের লাভজনক ও কারিগরি সহায়তা কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এইচএসসি পাস তিন ছাত্রকে। খোদ মন্ত্রণালয় পরিপত্র দিয়ে ছাত্রদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে রেলওয়ের বিভিন্ন কমিটিতে যুক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, রেলওয়েকে লাভজনক করার কমিটিতে ঢুকে সেই ছাত্ররাই সারা দেশে বিনা ভাড়ায় ট্রেনে যাতায়াতের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পত্র নেন। অনিয়মের শেষ এখানেই নয়। এবার স্বয়ং রেলওয়ের স্টেশন ফ্লোর বরাদ্দ নেওয়া ও নিজেদের জন্য চাকরির সুপারিশ করেন মন্ত্রণালয়ে।
তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র। তাই রেলপথ মন্ত্রণালয় তাদের দিয়েছে বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের সুযোগ। আর তা দিয়েই ফ্রিতে রেল ভ্রমণ করছেন সারা দেশে। দেশ টিভির হাতে আসা রেল মন্ত্রণালয়ের একাধিক নথিপত্র বলছে, মাত্র কয়েক মাসেই পুরো রেল মন্ত্রণালয়কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনিয়ম করছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। রেলের ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য করা সাত সদস্যের কমিটির তিন জনই ছাত্র। যাদের কোনো ধারণাই নেই রেলের ইঞ্জিন ও কার্যক্রম সম্পর্কে।
রেলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব পেয়ে শুধু তারাই নয়, রেল ভ্রমণ করছেন তাদের বন্ধুরাও। মাত্র তিন মাসে ফ্রিতে দেড় শতাধিক রেল টিকিট নিয়েছেন তারা। যার মূল্য ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ টাকা। নথি বলছে, রেলওয়েকে লাভজনক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে তাদের এমন ভ্রমণ, আবার দখল হওয়া জমি উদ্ধার ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধেও কাজ করার কথা তাদের। আসলেই কি তারা উদ্ধার করেছেন জমি, নাকি কালোবাজারি বন্ধ করতে গিয়ে নিজেরাই জড়িয়েছেন চাঁদাবাজিতে?
ভ্রমণ শেষে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের একাধিক ক্ষেত্রে চাকরির সুপারিশ করেছেন তারা। যা কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের কোটায় চাকরির সুযোগ। শুধু চাকরির সুপারিশ নয়, কক্সবাজার স্টেশনে জুলাই ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙ্গিয়ে চেয়েছেন পুরো একটি ফ্লোর বরাদ্দ। যা সম্পর্কে জানেই না জুলাই ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী।
কালোবাজারি বন্ধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও উলটো রেল কর্মকর্তাদের জিম্মি করে শুরু করে চাঁদাবাজি। দেশ টিভির হাতে এসেছে তার একাধিক কল রেকর্ড। তবে সকল অনিয়মের দায় রেলওয়ের ওপরেই চাপিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই ছাত্ররা।
অবশ্য সক্রিয়কর্মী দাবি করে রেলওয়েতে অনিয়ম করা শিক্ষার্থীদের চেনেন না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র।
তবে রেলওয়ের মহাপরিচালকের দাবি, তদন্ত করে রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।
নিজেদের স্বার্থে সরকারি ট্রেনকে বেসরকারিতে রুপান্তর, একাধিক টেন্ডারে হস্তক্ষেপসহ বিনা ভাড়ায় ট্রেন ভ্রমণের জন্য রেল পাসের মেয়াদ বাড়াতে এই ছাত্ররা এখন পর্যন্ত আবেদন করেছে তিন বার।
/অ