দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিমসটেক সম্মেলনের এক ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের প্রধানের এউ সাক্ষাতকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটি মনে করছে তাদের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার তিক্ততা কমে আসবে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেকে (দুই দেশের প্রধানদের) বৈঠক আনন্দের। আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আশার আলো তৈরি করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে বিটারনেস (তিক্ততা) তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষকে এবং ভারতের মানুষদের উপকার করবে।
অন্যদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রয়োজন ছিল। এই বৈঠকটা নিশ্চয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটার প্রয়োজন আছে এবং প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, এই বৈঠকের জন্য আমাদের সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে একটা বৈঠক হওয়ার দরকার ছিল, তারা তা করেছেন। তবে আমি জানি না বৈঠকের অভ্যন্তরে কি আলোচনা হয়েছে। বিশদ না জানলে আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।
মির্জা আব্বাস বলেন, বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। তিস্তা বাঁধ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নাই। তিস্তার পানি আমাদের দিতে হবে এবং তিস্তা বাঁধের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আমাদের করতে হবে। তিস্তা ও ফারাক্কার বিষয়ে নিয়ে বাংলাদেশ কোনো ছাড় দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ একটা শক্ত অবস্থানে আছে। ভারতের সাথে যেসব অসম চুক্তি বিগত সরকারের আমলে হয়েছে এখন সেসব চুক্তি বাতিল করা দরকার। যেসব অসম চুক্তি কার্যকর হয় নাই সেগুলো বাতিল করতে হবে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্পর্কে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এবং এই বিচার সময়ের দাবি, জনগণের দাবি, আমাদের দাবি। যদি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কথাবার্তা হয়ে থাকে, তাহলে আমি একটু যোগ করতে চাইবো, উনার (শেখ হাসিনা) যেসব সাঙ্গ-পাঙ্গ আছে সেখানে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে তাদেরও যেন সঙ্গে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে পাঠিয়ে দেয়া। যাতে তার বিচারটা হয়।
এফএইচ/