দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ড্রাইভার শাহ আলম ভুঁইয়া এখন বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি। সারাদেশের নৌপথে চাঁদাবাজির একচ্ছত্র মাফিয়া। শুধু তাই নয় ৩৬ বছর ধরে ভোট ছাড়াই জিম্মি করে রেখেছেন বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতির পদটি। তাকে চাঁদা না দিলে লাইটারেজ ভ্যাসেল থেকে ছোট বড় কোনো জাহাজেরই নৌপথে চলা অসম্ভব। সাগর ও নদীতে তার রয়েছে বিশাল জলদস্যুবাহিনী। শ্রমিকদের কাছে নৌপথের অঘোষিত দস্যু সম্রাটও এই শাহ আলম।
‘এক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট, মোংলা পোর্টসহ সারাদেশে সব নৌ সেক্টর বন্ধ করে দিতে পাবি। আবার ১০ মিনিটের মধ্যে চালু করে দিতে পারব। তারও কেউ জিজ্ঞেস করবে না, কেন?’
এভাবেই দাম্ভিকতার সঙ্গে কথা বলছিলেন বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া। দম্ভ করে বলেন, তার দাপটে কাঁপে সারাদেশের নৌ-পথ। দম্ভ করে বলেন, তিনি চাইলে ১০ মিনিটেই বন্ধ করে দিতে পারেন সারাদেশের নৌ চলাচল।
সাগর কিংবা নদীতে রয়েছে শাহ আলমের বিশাল দস্যু বাহিনী। সাগর ও নদীতে চলাচলে তটস্ত থাকে সারাদেশের লাইটারেজ ভ্যাসেল থেকে ছোট বড় সব জাহাজ।
একজন ক্ষুদ্র কার্গো ভ্যাসেল ড্রাইভার থেকে নৌপথের অঘোষিত সম্রাট শাহআলমের কাছে জিম্মি খোদ জাহাজ মালিক সমিতিও। শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা হয়েও নিয়ন্ত্রণ করেন পুরো দেশের লাইটারেজ ভ্যাসেল থেকে ছোট বড় সব জাহাজ।
শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির কাছে জাহাজ মালিকরা জিম্মি স্বীকার করে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, আমাদের জাহাজ মালিকদের ক্ষতি করে আটকে রেখে যদি সমস্যা সমাধান করে। তারা অনেক কিছুই পারে।
স্বৈরাচার হাসিনা আমলে নৌবন্দরে সিরিয়াল বাণিজ্যের নামে নানা অনিয়মের মূল হোতা এই শাহাআলম। সিরিয়াল বাণিজ্যের নামে বেসরকারী মালিকানাধীন জাহাজকে বাধ্য করা হতো নিজেদের গড়া কোম্পানীর অধীনে চলতে। আর এতে জাহাজ মালিকদের অগোচরে বছরে হাজার কোটি টাকার নিয়ন্ত্রণও করতেন এই শাহালম। যার কিছু অংশ যেত তার পকেটে।
শাহ আলমের অতি সাধারণ বেশভুষায় চলনবলন পুরোটাই ছদ্মবেশ। তার বাড়ি আর সম্পদ দেখলে চোখ কপালে উঠবে। ঢাকার কেরাণীগঞ্জে সুবিশাল বাড়ী। পাশেই প্লট। এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজকীয় বাগানবাড়ী রয়েছে। আর রাজধানীতে রয়েছে নামে রেনামে বহু প্লট ও ফ্ল্যাট। সব মিলিয়ে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক এই শাহ আলম।
এই শাহ আলম বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক ফেডারেশনকে জোরপূর্বক কুক্ষিগত করে রেখেছেন গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে করে। ভয়ে তার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াতে চায় না কেউ। ভোট ছাড়াই গত ৩৬ বছর শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি।
এফএইচ