দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাইয়ের শেয়ার চীনের সাইনোহাইড্রো করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরে দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আট সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর ফলে আটকে গেছে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ। কারণ শেয়ার হস্তান্তর না হলে চীনা ব্যাংক টাকা দেবে না বলে জানিয়েছেন সাইনোহাইড্রো করপোরেশনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী।
এদিন আদালতে ইতালিয়ান-থাইয়ের পক্ষে শুনানিতে করেন এ এম আমিন উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুক, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল। আর সাইনোহাইড্রোর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে, গত রোববার ইতালিয়ান-থাই কোম্পানির শেয়ার চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার আদেশ তুলে নেয় হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এমন আদেশের ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে আশার আলো দেখা দেয়। পরে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ইতালিয়ান থাই কোম্পানি।
কথা ছিলো চলতি বছরেই শেষ হবে সরকারের অগ্রাধিকার দেয়া মেগা প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। রাজধানীর যানজট নিরসনে নেওয়া এই উড়ালসড়কের কাজ এসময় দ্রুত গতিতে চলার কথা। কিন্তু হঠাৎ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বন্দ্বে থেমে যায় নির্মাণকাজ।
কাওরানবাজার থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র চলমান আছে কাওরানবাজার থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার র্যাম্পের কাজ। যদিও গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১১.৫ কিলোমিটার পথ চালু করা হয়।
চলতি বছরের ২০ মার্চ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) গেট-সংলগ্ন র্যাম্প যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আর জুনের মধ্যে তেজগাঁও থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত চালু করার পরিকল্পনা ছিলো।
কিন্তু থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তাদের শেয়ার দাবি করে চীনা প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে ইতালিয়ান থাই কোম্পানি একটি মামলা করে। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব গড়ায় হাইকোর্টেও। এ কারণে ঋণ সহায়তার টাকা বন্ধ করে দেয় দুটি চীনা ব্যাংক।
এদিকে সিঙ্গাপুরের সালিশ আদালতে থাকা মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। হাইকোর্টের আদেশের নথি পাওয়ার পর আপিল বিভাগ এই প্রকল্পের অর্থায়ন ও কারা কাজ করতে পারবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে দেশের প্রথম এলিভেটেড এসপ্রেসওয়ের কাজ পায় থাইল্যান্ডের কোম্পানি ইতাল-থাই। তবে অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আট বছরেও কাজ শুরু করতে পারে না কোম্পানিটি।
২০১৯ সালে ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে চীনের দুই কোম্পানি শ্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ও সাইনোহাইড্রোকে যুক্ত করে শুরু হয় কাজ। এ কাজে তিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার যথাক্রমে ৫১, ৩৪ ও ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাহী প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী, নির্মাণ ব্যয়ের ৭৩ শতাংশের জোগান দেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। আর ২৭ শতাংশ দেবে বাংলাদেশ সরকার।
ডিপি/