দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের ঐতিহ্য বলে দাবি করে জিআই স্বীকৃতি নিয়েছে ভারত। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এমন করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের টাঙ্গাইলে তাঁত সংশ্লিষ্টসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুস শহীদ। টাঙ্গাইল শাড়ির ইন্টাল্যাকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটসের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের ঐতিহ্য বলে দাবি করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত, একটি ঐতিহ্যগত হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর সূক্ষ্ম গঠন, স্পন্দনশীল রং এবং জটিল জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত—এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।’
এছাড়াও প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়িই দেশটির দক্ষ কারুকার্যের প্রমাণ, ঐতিহ্য এবং কমনীয়তাকে একত্রিত করে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বত্ব পাওয়ায় বাংলাদেশে অনেক সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁত সংশ্লিষ্টদের দাবি, টাঙ্গাইল যেহেতু বাংলাদেশের একটি জেলা এবং প্রায় দুইশ বছর যাবৎ নিজস্ব ঐতিহ্য বহন করে সারা বিশ্বে নাম করেছে। এটা কোনোভাবেই ভারতের পণ্য হিসাবে জিআই হতে পারে না। যদি ভারতের নিজস্ব পণ্য হতো তাহলে কেনো টাঙ্গাইলের তাঁত নামকরণ হয়েছে? ভারতে টাঙ্গাইল জেলা নামেও তো কোনো জেলা নাই।
দ্রুত ভারতের জিআই বাতিল করে টাঙ্গাইল শাড়িকে বাংলাদেশের পণ্য হিসাবে জিআই স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এবং আন্দোলনকারীরা।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো কুটিরশিল্প। এ অঞ্চলের তাঁতের শাড়ি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় তৈরি হয় এবং এই জেলার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে।
এফএইচ