দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মন্টিটস্কি।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসে ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণকারী দুই নৌ কর্মকর্তাকে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে রুশ রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
আলেকজান্ডার মন্টিটস্কি বলেন, রাশিয়ার মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার বিবৃতি ছিল ১০ বছর আগে ইউক্রেনের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা। আমরা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে আসিনি।
তিনি বলেন, আমাদের মুখপাত্রের বিবৃতিটি ছিল ২২ নভেম্বরের। সেটি ছিল নির্বাচন, আপনার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিষয়ে। তিনি দশ বছর আগে ইউক্রেনের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করেছিলেন। যা ছিল ১০ নভেম্বর ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়ে। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায়।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ওই ক্যু ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল, এ ঘটনার স্বীকৃতিও পরে দেওয়া হয়েছিল। এটাই ছিল বিষয়, শুধু তুলনা। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বারা কি ঘটানো সম্ভব। আমরা এখানে প্রভাব বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি না। আমরা শুধু বলছি দেখতে যে পশ্চিমাদেশগুলোর দ্বারা কি ঘটানো হয়েছিল এবং এখানে কি ঘটছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বরাবরই সমালোচনা করে আসছে রাশিয়া। যার ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো পরিস্থিতি ঘটিয়ে ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মস্কোর আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কয়েকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে ওয়াশিংটন। বাইডেন প্রশাসনের টার্গেট হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সরকারি কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ২২ নভেম্বর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস অক্টোবর মাসে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ডিপি/