দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভৌগোলিক কারণে হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের উত্তর জনপদে এরইমধ্যে হালকা শীতের পরশ অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের চারপাশ। প্রকৃতিতে ঋতুবদলের এমন আভাস মিলছে রংপুরের জেলাগুলোতে।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে হেমন্তের হাত ধরে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি বাড়ছে। যদিও দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে এবং তাপমাত্রা এখনো তেমন কমেনি, তবু ভোরের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। সব বয়সী মানুষের মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি-কাশি জ্বরসহ অন্যান্য রোগ। চিকিৎসকরা বলছেন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এ সময়টাতে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে শীত জনিত রোগে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩শ’ ৮২ জন রোগী।
রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মোখছেদ আলী শীতের এ পরিবর্তন টের পাচ্ছেন ভোরের বাতাসে। তিনি বলেন, ‘অ্যালাং তেমনটা জার দ্যাখা দ্যায় নাই। সকাল বেলা অ্যাকনা অ্যাকনা জার নাগে। সকাল বেলা চারপাশে কুয়াশা পড়ে। দিন দিন জার বাইরবার নাইকছে।’
একই স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আইতো বাতাস উঠলে অ্যাকনা জার নাগে। তখন হামারগুলার খুব কষ্ট হয়। ভোর বেলা অ্যাকনা কুয়াশা পইরলে তখন অ্যাকনা জার নাগে। সকাল ৭টার পর আকাশোত বেলা দ্যাখা দ্যায়। তখন আর তেমন জার থাকে। যতদিন যাবার নাইকছে ততই হামারগুলার জারের ভয় আইসবার নাইকছে। হামার তো গরম কাপড়চোপড় নাই।’
তাদের কথায়, এখনো শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় প্রকৃত শীত নামলে দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে। এ সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এতে সড়কে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তবে দিনের বেলায় এখনো তেমন ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে না।
রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক নিবিড়। ফলে ঋতুবদলের এ সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে বাড়তি নজর রাখছেন কৃষকরা। মাঠে কোথাও আমন ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে, কোথাও ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষেও ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। ভোরের কুয়াশা ও তাপমাত্রার ওঠানামা ফসলের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও ভাবছেন তারা।
কালীগঞ্জের কাকিনা এলাকার কৃষক কৃষব চন্দ্র রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে ঘন কুয়াশা থাকায় জমিতে কাজ করতে যেতে কিছুটা ভয় লাগে। তবে সকাল ৭টার পর সূর্যের দেখা মেলায় তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয় না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে, শীতের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শহরের বাজারগুলোতেও। রংপুর স্টেশন রোডের শীতবস্ত্র বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন জানান, শীতের পোশাক, চাদর ও কম্বল নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান সাজাতে শুরু করেছেন। ক্রেতাদের মধ্যেও শীতবস্ত্র কেনার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমিসহ সকল কাপড় ব্যবসায়ী শীতের কাপড় নিয়ে দোকান খুলেছি। বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এখনো পুরোদমে বিক্রি হচ্ছে না।’
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক শিশু জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতার কারণে ভোরে কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তনের প্রভাবেও আবহাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পর মেঘ সরে আকাশ পরিষ্কার হলে ভোরের দিকে কুয়াশা
তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা শীতের অনুভূতি হতে পারে। বয়ে যেতে পারে মৃদু শৈত প্রবাহ।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হতদরিদ্র, ছিন্নমুল ও অসহায় মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হবে। বাসস
কে