দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের উন্নতি করা গেলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং এর বিস্তার অনেক কমে আসবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘সবাই মিলে সচেতন থাকি, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। খিদমাহ হসপিটাল ও খিদমাহ আই হসপিটাল লিমিটেড এ সেমিনারের আয়োজন করে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন জায়গায় আকস্মিক সফরে যাচ্ছেন এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা-৯ এলাকা একটি দরিদ্র অঞ্চল। এখানে একটি মাত্র হাসপাতাল রয়েছে। তবে মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ২৫০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মুগদা হাসপাতালে বড় পরিসরে ব্যবস্থা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় যে সময় ও ব্যয় লাগে, তার চেয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সহজ। এ জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মশা নিধনের পাশাপাশি এলাকার খাল, ডোবা ও নালাসহ বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিতে চিকিৎসকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
মুগদা হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। অবকাঠামো উন্নয়নসহ হাসপাতালটির বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার ছিল, পরে সেটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে মুগদা হাসপাতালে একটি বুথ ছিল। পরে আরও তিনটি নতুন বুথ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে। এলাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
আগের সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলোর জনগণের কাছে জবাবদিহি ছিল না। জনগণের ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত না হওয়ায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গাটিও ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, তিনি এই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং এখানেই বসবাস করেন। এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আগের সরকারগুলোর অসম্পূর্ণ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, আগের সরকারগুলো লুণ্ঠনের দিকে মনোযোগী ছিল, আর বর্তমান সরকার সেবার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
এলাকার নাগরিক সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেভাবে এলাকাগুলো গড়ে তোলা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল, সেভাবে তা হয়নি। এ কারণে এখন এলাকার খাল ও নালাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মান্ডা ও জিরানী খালসহ এলাকার বিভিন্ন খাল এবং নালা পরিষ্কারের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে।
কে