দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির অর্থায়ন রয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের বাইরে থেকে একটি পক্ষ অর্থ সরবরাহ করছে, আর দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ দুই পক্ষ এক হয়ে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ কলকারখানা চালু এবং নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয় এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ দল আরও কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সরকারের জনবান্ধব কর্মকাণ্ড ধীর করে দেওয়া এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। যেসব কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলো গ্রহণকারীরা জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপি একুশ, একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। চব্বিশের চেতনা ধারণের কথা বলা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এসব দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে অসংগতি দেখা গেছে।
ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়েও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি মহল ষড়যন্ত্র করেছে। সেই মহল আবারও দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জনসভায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের সাত মাসের মধ্যে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সারা দেশে ছয়টি বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার আখচাষির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। চলতি বছরই ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
সেচ ও পানির সংকট নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা, পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমএস/