দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তারের পর তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা দায়ের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত ৪ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তার দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত মর্মে উল্লেখ করা হয় রিমান্ড আবেদনে।
এতে বলা হয়, আসামিরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালান। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
আরও বলা হয়, আসামিরা ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত তারা তাদের দোসরদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান নির্ণয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ বলেন, দুই আসামি সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করতে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ বিষয় গুপ্তচরদের কাছে পাচার করছে। তাদের রিমান্ডে দিলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে কারা জড়িত, দেশি-বিদেশি কোন কোন গুপ্তচরদের যোগাযোগ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। তাদের সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করছি।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির নজরদারিতে ছিলেন।
কেএম