দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারাদেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে কীভাবে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পানি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য হলেও দূষিত ও জীবাণুযুক্ত পানি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে প্রচুর পানি থাকলেও সেগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। উজানের নদীগুলো থেকে পানি প্রত্যাহারের কারণে উত্তরের জেলাগুলোতে মরুকরণের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলেও।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো দিয়ে পানি বঙ্গোপসাগরে যায়। নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ততা ওপরের দিকে উঠে আসে। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দশক ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে পানীয় জলের বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সুপেয় পানি পাওয়া মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শুধু ইউনিসেফ নয়, বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে যে প্রকল্পের কথা আলোচনা হয়েছে, সেটির মোট ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এসব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করার চেষ্টা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে আসছে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, অতীতে পাওয়া সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণও কমে আসছে। ধনী দেশগুলো নিজেরাও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহায়তা কমছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে এসেছে। জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। বিগত ১৭ বছরে যে অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে, তা বন্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভবিষ্যতে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবায় সঠিকভাবে নিয়োজিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।