দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ভিড়। কেউ জমির নামজারি নিয়ে ব্যস্ত, আবার কেউ নিজের পেন্ডিং আবেদনের খোঁজ নিতে এসেছেন। তাদের ভিড়েই বোরকা পরে চুপিসারে প্রবেশ করেন এক নারী। পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে সাধারণ সেবাগ্রহীতা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। পরে জানা যায়, ওই নারী আর কেউ নন, ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
সেবামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সরেজমিনে যাচাই করতে পরিচয় গোপন রেখে উত্তর খান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান ডিসি ফরিদা খানম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বোরকার আড়ালে সাধারণ সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে দীর্ঘক্ষণ অন্যদের সঙ্গে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষের সুবিধা-অসুবিধা, ভোগান্তি, বিলম্ব, অনিয়ম কিংবা হয়রানির বিষয়ে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
শুধু সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা শোনাই নয়, নিজেও একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো ভূমি অফিসের সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় অফিসের সামগ্রিক কার্যক্রম, কর্মীদের আচরণ এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া কতটা সহজ বা জটিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই সহজে ভূমিসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতেই পরিচয় গোপন রেখে এ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। সেবা নিতে এসে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অফিসে বসে প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গিয়ে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানা গেলে সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র বোঝা সহজ হয়। পরিচয় প্রকাশ না করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ালে সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা আরও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
এমএস/